সত্যরেখা ডেস্ক:
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে দুই বিমানকর্মীর জুতার ভেতরে লুকানো ৮০টি সোনার বার উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুই কর্মী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। উদ্ধার করা সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে আসামি মানিক মিয়া ও মিজানুর রহমানকে আদালতে হাজির করা হয়। তারা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক আবুল কাইয়ুম জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন।
পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাত তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আবু বকর ছিদ্দিক।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি) সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালান সংস্থাটির কর্মকর্তারা। এ সময় দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ারলাইনসের ইকে-০৫৮২ ফ্লাইটের রানওয়েতে অবস্থান করা দুই বিমানকর্মীর জুতার ভেতর বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা সোনার বার উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা সোনার বারগুলোর প্রতিটির ওজন প্রায় ১১৭ গ্রাম। সব মিলিয়ে সোনার মোট ওজন প্রায় ৯ কেজি ৩৪০ গ্রাম। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে সিআইআইডি।
এ ঘটনায় রবিবারই দুই বিমানকর্মীকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরদিন আদালত তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সিআইআইডি জানিয়েছে, সোনার বারগুলো কোথা থেকে আনা হয়েছিল, চোরাচালানের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং সেগুলো কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় বিমানবন্দরের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেলের অ্যাসিস্ট্যান্ট রেভিনিউ অফিসার রুহানী ইসলাম বাদী হয়ে রবিবার বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন।