সত্যরেখা ডেস্ক:
দখল, দূষণ ও ভাঙনের কবল থেকে ফুলজোড় নদীকে রক্ষা করে তার হারানো যৌবন ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। শুধু খননকাজে সীমাবদ্ধ না থেকে সিএস মানচিত্রসহ পুরোনো ভূমি রেকর্ডের ভিত্তিতে নদীর প্রকৃত প্রবাহপথ উদ্ধার, নদীতীর রক্ষা এবং দূষণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি নদীগর্ভে বিলীন মুন্ডুমালা মহাশ্মশানের জমি উদ্ধারের সম্ভাবনা যাচাই ও দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে আবাসন-সংকটে থাকা ২৬টি ভূমিহীন পরিবারের সমস্যার সমাধান দাবি করা হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোণায় মুন্ডুমালা মহাশ্মশান চত্বরে বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মানববন্ধন ও আলোচনা সভায় এসব দাবি উত্থাপন করা হয়। মথুরা সমাজকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও স্বেচ্ছাসেবী পরিবেশবাদী সংগঠন মুক্তজীবন যৌথভাবে অংশ নেয়।
বাপার সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক ও মুক্তজীবনের সভাপতি দীপক কুমার করের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাপার কেন্দ্রীয় নেতা ও বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মথুরা সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী পরিচালক মো. জাহিদুর রহমান জাহিদ, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ডা. চন্দন কুমার সরকার, মুক্তজীবনের সদস্য মো. আলীম তালুকদার, মুন্ডুমালা মহাশ্মশান পরিচালনা কমিটির সভাপতি শ্রী জীবন কৃষ্ণ কুন্ডু, শ্রী রতন কুমার কুন্ডু, কমিটির সহসভাপতি শ্রী সঞ্জয় কুমার চন্দ ও সাধারণ সম্পাদক শ্রী সন্তোষ কুমার মহন্তসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
কর্মসূচির শুরুতে ফুলজোড় নদী পুনরুদ্ধারে এলাকাবাসীর পক্ষে একটি আবেদনপত্র পাঠ করেন দীপক কুমার কর। আবেদনে সিএস, এসএ, আরএস ও বিএস মানচিত্রের পাশাপাশি পুরোনো ভূমি রেকর্ড এবং স্যাটেলাইট চিত্র পর্যালোচনা করে নদীর হারিয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক প্রবাহপথ চিহ্নিত ও পুনরুদ্ধারের দাবি জানানো হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, ফুলজোড় নদীর ভাঙনে মুন্ডুমালা মহাশ্মশানের প্রায় ৮০ শতাংশ জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এসব জমি পুনরুদ্ধার সম্ভব কি না, তা যাচাইয়ের পাশাপাশি ২৬টি ভূমিহীন পরিবারের বরাদ্দ পাওয়া জমির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া কেশরখালি খাল দখলমুক্ত করে পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
নদী রক্ষায় অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্য নিষ্কাশন বন্ধ, বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার ভিত্তিতে খননকাজ পরিচালনা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থার দাবি তোলেন তাঁরা। একই সঙ্গে নদীদূষণের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ফুলজোড় নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হলে পরিকল্পিত খননের পাশাপাশি দখল ও দূষণ বন্ধ করতে হবে। নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা জনপদ, মানুষের জীবন-জীবিকা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মুক্তজীবনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম খোরশেদ আলম ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মরহুমা মোমেনা খাতুনের আত্মার মাগফিরাত কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।