রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
শিরোনাম:
জুতার ভেতর ১৬ কোটি টাকার সোনা, আদালতে দুই বিমানকর্মীর স্বীকারোক্তি সরকারি চাকরিজীবীদের ৪২ ধরনের ভাতা করমুক্ত, কর দিতে হবে মূল বেতন ও বোনাসে ২০৩০ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা সিএস মানচিত্র ধরে ফুলজোড় নদীর প্রবাহপথ উদ্ধারের দাবি এলাকাবাসীর ফ্যাটি লিভার থেকে কি লিভার ক্যান্সার হতে পারে? যে ৭ লক্ষণে সতর্ক হবেন ওয়ানডে দলে প্রথমবার আলিস, বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন লিটন স্থানীয় সরকারকে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য: মঈন খান দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ, রমজানে সংকটের আশঙ্কা নেই: খাদ্যমন্ত্রী রায়গঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা জালাল নগর হাটের উদ্বোধন করলেন এমপি আয়নুল হক রায়গঞ্জে পৃথক অভিযানে বিভিন্ন মামলার ৫ আসামি গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন রাবির অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক

Reporter Name / ৩৭ Time View
Update : রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩০ পূর্বাহ্ন

সত্যরেখা ডেস্ক:

পদার্থবিজ্ঞানে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির (এপিএস) ফেলো নির্বাচিত হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক। এ বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পদার্থবিজ্ঞানীদের মধ্যে মাত্র ১৫৩ জন এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা পেয়েছেন।

 

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় তাঁর ফেলো নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। নিউক্লীয় পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানে গবেষণার পাশাপাশি বাংলাদেশে কম্পিউটার-সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিজ্ঞানশিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য তাঁকে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

 

এপিএসের মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে, নিউক্লিয়াস-নিউক্লিয়াস বিভব প্রয়োগের মাধ্যমে নিউক্লীয় পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানের দীর্ঘদিনের জটিল সমস্যার সমাধানে অধ্যাপক বসাক উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষকতা, বিজ্ঞানশিক্ষার প্রসার এবং দক্ষতা উন্নয়নেও তাঁর ভূমিকা রয়েছে।

 

পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণা ও পেশাজীবী সংগঠন হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হওয়া বিজ্ঞানীদের জন্য বিশেষ সম্মানের। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা, মৌলিক অবদান ও বিজ্ঞানীসমাজে ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

 

আন্তর্জাতিক এ অর্জনের মাত্র কয়েক দিন আগেই জাতীয় পর্যায়ে সম্মানিত হন অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে গত ৫ অক্টোবর ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁকে গুণী শিক্ষক সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর হাতে ক্রেস্ট, সম্মাননাপত্র ও দুই লাখ টাকার চেক তুলে দেন।

 

জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষকতার স্বীকৃতি পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণার এ সম্মাননা তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা ও গবেষণাজীবনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিজ্ঞানচর্চা ও উচ্চশিক্ষার অঙ্গনে তাঁর অবদানের গুরুত্বও তুলে ধরেছে।

 

শুধু গবেষণা ও পাঠদানে নয়, দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিশিক্ষার অবকাঠামো উন্নয়নেও অবদান রয়েছে এই শিক্ষাবিদের। বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সেন্টার প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তী সময়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ গড়ে তোলার কাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি।

 

গুগল স্কলারে অধ্যাপক বসাকের গবেষণাপ্রোফাইলে ১ হাজার ৭১৫টি সাইটেশন, ২৬টি এইচ-ইনডেক্স এবং ৬২টি আই-১০ ইনডেক্স দেখা যায়। এসব সূচক তাঁর গবেষণাকর্মের প্রভাব সম্পর্কে ধারণা দিলেও গবেষণার মৌলিকত্ব, গুণগত মান এবং দীর্ঘমেয়াদি অবদান মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

 

অধ্যাপক বসাকের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির খবরে আনন্দ প্রকাশ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে অনেকে তাঁর গবেষণা, শিক্ষকতা ও বিজ্ঞানশিক্ষায় অবদানের প্রশংসা করছেন।

 

মারুফ হাসান নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক স্যারের এ অর্জন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গর্বের। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাঁর এ স্বীকৃতি প্রমাণ করে, গবেষণার মান ও অবদানই একজন বিজ্ঞানীর প্রকৃত পরিচয়। আমরা আশা করি, তাঁর এ অর্জন দেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় আরও উৎসাহিত করবে।’

 

সাদিয়া আফরিন নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘একজন শিক্ষক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পেলে তা শিক্ষার্থীদেরও অনুপ্রাণিত করে। অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক স্যারের গবেষণা ও বিজ্ঞানশিক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি আমাদের জন্য আনন্দের ও গর্বের। আমরা চাই, তাঁর মতো গুণী শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হোক এবং তাঁদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের গবেষণাক্ষেত্রকে আরও এগিয়ে নেওয়া হোক।’

 

দীর্ঘদিনের গবেষণা, শিক্ষকতা ও বিজ্ঞানশিক্ষার প্রসারে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাকের এ অর্জন বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাজগতের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর এই আন্তর্জাতিক সম্মাননা নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় আগ্রহী করে তুলবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর