সত্যরেখা ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে মাইক্রোসফটসহ সাতটি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নতুন ও চলমান কিছু গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের আওতাধীন পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন (পার্ম) কর্মসূচির আওতায় থাকা আবেদনগুলো স্থগিত করা হয়েছে। দেশটিতে বিদেশি কর্মীদের স্থায়ীভাবে নিয়োগের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে এই সনদ গুরুত্বপূর্ণ।
স্থগিতাদেশের আওতায় থাকা সাতটি প্রতিষ্ঠান হলো—মাইক্রোসফট, কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস, টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস (টিসিএস), উইপ্রো, এইচসিএল টেকনোলজিস ও ক্যাপজেমিনি।
তবে এই সিদ্ধান্তে আগে থেকে গ্রিন কার্ড পাওয়া ব্যক্তিদের অনুমতি বাতিলের কথা বলা হয়নি। মূলত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন ও চলমান আবেদন প্রক্রিয়াই এর আওতায় এসেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, বিদেশি কর্মী নিয়োগে সম্ভাব্য অনিয়ম প্রতিরোধ এবং মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ রক্ষার লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী স্থগিতাদেশ বহাল রাখা হতে পারে বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে হার্ভার্ড, ইয়েল, স্ট্যানফোর্ড, ব্রাউন ও ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিসহ (এমআইটি) মোট নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে বিদেশি প্রভাব, বিনিময় কর্মসূচির ভিসার সম্ভাব্য অপব্যবহার, আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা এবং গবেষণার সততা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মাইক্রোসফটের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স অভিযোগ করেছেন, মাইক্রোসফট গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ছয় হাজার কর্মী ছাঁটাই করলেও এইচ-১বি ভিসা ও গ্রিন কার্ডের মাধ্যমে বিদেশি কর্মী নিয়োগের সুবিধা পেয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৬ হাজার ৩০০টি এইচ-১বি ভিসা এবং প্রায় তিন হাজার গ্রিন কার্ড পেয়েছে।
তবে এ বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে মাইক্রোসফট। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, গত অর্থবছরে তাদের এইচ-১বি ভিসার আবেদনের প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল আগে থেকে কর্মরত কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো কিংবা অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থার পরিবর্তনের জন্য। এসব আবেদন নতুন কর্মী নিয়োগের উদ্দেশ্যে করা হয়নি বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
মাইক্রোসফট আরও বলেছে, এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত কর্মীদের একই ধরনের দায়িত্ব পালনকারী অন্য কর্মীদের সমান বেতন দেওয়া হয়।
বিদেশি কর্মী নিয়োগে আরও কড়াকড়ি
এর আগে বিদেশ থেকে নতুন এইচ-১বি কর্মী নিয়োগের আবেদনে এক লাখ ডলারের এককালীন ফি আরোপ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। এ ছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগে অনিয়ম শনাক্ত করতে ‘প্রজেক্ট ফায়ারওয়াল’ নামে একটি উদ্যোগ চালু করা হয়েছে।
এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় ২০০টি মামলা বা তদন্তের বিষয় রয়েছে। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে জরিমানাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগ এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়ায় নজরদারি আরও জোরদার হচ্ছে। তবে গ্রিন কার্ডের আবেদন স্থগিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ভবিষ্যৎ, প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তি খাতে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।