সত্যরেখা ক্রীড়া ডেস্ক:
ফুটবলের মাঠে কত বিদায় আসে, কত মুহূর্ত হারিয়ে যায় সময়ের স্রোতে। কিন্তু কিছু বিদায় কখনোই ফুরিয়ে যায় না। স্মৃতির পাতায়, সমর্থকদের হৃদয়ে আর ইতিহাসের অলিগলিতে সেসব মুহূর্ত বেঁচে থাকে চিরকাল। লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচের ১০ নম্বর জার্সিও যেন তেমনই এক আবেগমাখা স্মারক।
আর্জেন্টাইন ফুটবল মহাতারকার সেই জার্সি এখন স্থান পেয়েছে রিভার প্লেটের জাদুঘরে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কাছে মেসির কীর্তি ও ফুটবল-ঐতিহ্য তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ। জার্সিটি নিছক একটি পোশাক নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য গোল, শিরোপার আনন্দ, কঠিন লড়াই আর কোটি ভক্তের ভালোবাসা।
মেসির বিদায়ী ম্যাচটি ছিল আবেগ আর প্রাপ্তির এক অনন্য মিশেল। বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয়ে দলের তিনটি গোলেই কোনো না কোনোভাবে যুক্ত ছিলেন এই তারকা। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে গোল করেন নিকোলাস ওতামেন্দি। ৬১ মিনিটে নিকো পাজের দারুণ গোলেও অবদান ছিল মেসির পাসের। এরপর ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে নিজের বিদায়ী মুহূর্তকে আরও স্মরণীয় করে তোলেন তিনি।
৮৫ হাজারের বেশি দর্শকের উপস্থিতিতে মেসির বিদায় ঘিরে গ্যালারিতে তৈরি হয়েছিল আবেগঘন পরিবেশ। কারও চোখে ছিল আনন্দের অশ্রু, কারও মনে প্রিয় তারকাকে আর জাতীয় দলের জার্সিতে দেখতে না পাওয়ার বেদনা। দীর্ঘদিনের ভালোবাসা, অসংখ্য স্মৃতি আর এক কিংবদন্তির প্রতি শ্রদ্ধা মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল সেদিন।
আর্জেন্টিনার হয়ে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মেসি গড়েছেন অসংখ্য রেকর্ড। জাতীয় দলের হয়ে ২০৮ ম্যাচে ১২৬ গোলের কীর্তি তাকে বসিয়েছে ইতিহাসের বিশেষ আসনে। আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফুটবল তারকার অর্জন শুধু পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়; বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের ফুটবলপ্রেমের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে তার নাম।
বিদায়ী ম্যাচের স্মৃতি ধরে রাখতে নিজের ১০ নম্বর জার্সিটি রিভার প্লেটকে উপহার দেন মেসি। জার্সিতে লিখে দেন ভালোবাসার বার্তাও। সেই জার্সি এখন জাদুঘরে সংরক্ষিত। তবে কাচের দেয়ালের ওপারে জার্সিটি যত দিনই থাকুক, মেসির ফুটবল-জাদু আটকে থাকবে না কোনো প্রদর্শনীতে।
সবুজ মাঠে তার বাঁ পায়ের নিখুঁত শট, রক্ষণভাগ ভেদ করা পাস আর গোলের পর দুই হাত তুলে উদ্যাপনের দৃশ্য বারবার ফিরে আসবে ভক্তদের স্মৃতিতে। সময় বদলাবে, নতুন তারকারা আসবেন, কিন্তু ফুটবল ইতিহাসে লিওনেল মেসির নাম থেকে যাবে এক অনন্য অধ্যায় হয়ে।