শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
শিরোনাম:
সিএস মানচিত্র ধরে ফুলজোড় নদীর প্রবাহপথ উদ্ধারের দাবি এলাকাবাসীর ফ্যাটি লিভার থেকে কি লিভার ক্যান্সার হতে পারে? যে ৭ লক্ষণে সতর্ক হবেন ওয়ানডে দলে প্রথমবার আলিস, বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন লিটন স্থানীয় সরকারকে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য: মঈন খান দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ, রমজানে সংকটের আশঙ্কা নেই: খাদ্যমন্ত্রী রায়গঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা জালাল নগর হাটের উদ্বোধন করলেন এমপি আয়নুল হক রায়গঞ্জে পৃথক অভিযানে বিভিন্ন মামলার ৫ আসামি গ্রেপ্তার রায়গঞ্জে সড়ক পুনর্বাসনে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন নিজেকে নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই : ক্যাটরিনা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন রাবির অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক

বার্ধক্য জীবনের শেষ অধ্যায়, প্রস্তুতি হোক আখিরাতের

Reporter Name / ২৯ Time View
Update : শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ন

সত্যরেখা ডেস্ক:

বার্ধক্য মানুষের জীবনের এক স্বাভাবিক ও অনিবার্য পর্যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের শরীর, মন ও জীবনযাপনে পরিবর্তন আসে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ উপলব্ধি করতে শেখে জীবনের সীমাবদ্ধতা এবং পরকালের প্রস্তুতির গুরুত্ব। ইসলামের দৃষ্টিতে বার্ধক্য শুধু শারীরিক দুর্বলতার সময় নয়, বরং আল্লাহর আনুগত্যে ফিরে আসা, তাওবা করা এবং নেক আমল বাড়ানোরও গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

 

বার্ধক্যে শরীরের পরিবর্তন

 

বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয়। কোষের কার্যক্ষমতা কমে আসে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হতে পারে এবং বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কর্মক্ষমতায় ভাটা পড়ে। চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, শ্রবণশক্তির দুর্বলতা, হাড়ের ক্ষয় এবং চলাফেরায় অসুবিধা বার্ধক্যের পরিচিত লক্ষণ। চুলের পক্বতা ও শরীরের দুর্বলতা মানুষকে জীবনের ক্ষণস্থায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

 

এই পরিবর্তনগুলো মানুষকে উপলব্ধি করায় যে দুনিয়ার জীবন চিরস্থায়ী নয়। একসময় প্রত্যেক মানুষকেই পৃথিবীর জীবন ছেড়ে পরকালের পথে যাত্রা করতে হবে।

 

দীর্ঘ জীবন আল্লাহর পক্ষ থেকে আমলের সুযোগ

 

মানুষের জন্ম, মৃত্যু ও আয়ুর নির্ধারিত সময় সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ তাআলার রয়েছে। কেউ জানে না তার জীবনের শেষ মুহূর্ত কখন উপস্থিত হবে। তাই দীর্ঘ জীবন লাভ করাকে শুধু পার্থিব সৌভাগ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং সেই জীবনকে সৎকর্মে পূর্ণ করাই প্রকৃত সফলতা।

 

দীর্ঘ আয়ু পেয়েও যদি কেউ পাপাচার, অন্যায় ও প্রবৃত্তির অনুসরণে জীবন কাটিয়ে দেয়, তবে তার জন্য তা দুর্ভাগ্যের কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, যে ব্যক্তি জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করে, তার জন্য দীর্ঘ জীবন নেক আমল বাড়ানোর সুযোগ হয়ে ওঠে।

 

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ সেই ব্যক্তির ব্যাপারে তার অজুহাতের অবকাশ রাখেননি, যাকে তিনি এত দীর্ঘ জীবন দিয়েছেন যে সে ৬০ বছরে উপনীত হয়েছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪১৯)

 

এই হাদিসের শিক্ষা হলো, দীর্ঘ জীবন লাভের পরও আল্লাহর পথে ফিরে আসা ও নেক আমল করার ক্ষেত্রে অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে জীবনের পরিণত বয়সে পৌঁছে মানুষের উচিত নিজের কাজের হিসাব নেওয়া এবং পরকালের প্রস্তুতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

 

বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যে আখিরাতের প্রস্তুতি নেয়

 

প্রকৃত বুদ্ধিমান ব্যক্তি তিনি, যিনি দুনিয়ার ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের পরিণতির কথা ভুলে যান না। তিনি জানেন, মৃত্যু নির্ধারিত সময়েই আসবে, কিন্তু সেই সময় সম্পর্কে মানুষের কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই তিনি সময়কে মূল্য দেন, অন্যের অধিকার রক্ষা করেন, অন্যায় থেকে বিরত থাকেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট থাকেন।

 

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি কি তোমাদের এত দীর্ঘ জীবন দিইনি, যাতে যে উপদেশ গ্রহণ করতে চায়, সে উপদেশ গ্রহণ করতে পারে? আর তোমাদের কাছে সতর্ককারীও এসেছিল।’ (সুরা ফাতির, আয়াত: ৩৭)

 

এই আয়াত মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়, জীবনের প্রতিটি পর্যায়ই শিক্ষা গ্রহণ এবং নিজেকে সংশোধন করার সুযোগ। তাই সময় থাকতে ভুল থেকে ফিরে আসা এবং সৎপথে জীবন পরিচালনা করা জরুরি।

 

দুর্বলতা ও বার্ধক্য সৃষ্টির স্বাভাবিক নিয়ম

 

মানুষের জীবনে শৈশব, যৌবন ও বার্ধক্য—প্রতিটি পর্যায়ের রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য। শৈশবের দুর্বলতা কাটিয়ে মানুষ শক্তি ও কর্মক্ষমতা লাভ করে। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই শক্তিও একসময় কমে আসে। এটি সৃষ্টিজগতের স্বাভাবিক নিয়ম এবং মানুষের সীমাবদ্ধতারই প্রকাশ।

 

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন দুর্বল বস্তু থেকে এবং দুর্বলতার পর তিনি শক্তি দান করেন। আর শক্তির পর তিনি আবার দেন দুর্বলতা ও বার্ধক্য। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং তিনিই সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।’ (সুরা রুম, আয়াত: ৫৪)

 

এই আয়াত মানুষের জীবনের পরিবর্তনশীলতা তুলে ধরে। যৌবনের শক্তি কিংবা পার্থিব সামর্থ্য কোনোটিই চিরস্থায়ী নয়। তাই অহংকার পরিহার করে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা এবং জীবনের প্রতিটি পর্যায়কে কল্যাণকর কাজে ব্যয় করা উচিত।

 

বয়স বাড়ার সঙ্গে নেক আমলও বাড়ুক

 

মুসলিম নারী-পুরুষ সবারই উচিত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজের দায়িত্ব ও পরকালীন জবাবদিহির বিষয়টি আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করা। জীবনের অতিরিক্ত সময়কে অবহেলায় নষ্ট না করে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, ইস্তিগফার, দান-সদকা এবং মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা প্রয়োজন।

 

একই সঙ্গে মানুষের হক আদায়, অন্যায়ের জন্য অনুতপ্ত হওয়া, ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং সম্পর্কের জটিলতা মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। কারণ ইবাদতের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ন্যায়বিচার ও সদাচরণও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

 

বার্ধক্য হোক তাওবা ও আত্মশুদ্ধির সময়

 

বার্ধক্য মানুষকে জীবনের শেষ পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই এ সময় ‘পরে তাওবা করব’, ‘পরে ইবাদত বাড়াব’—এমন চিন্তা করে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। তাওবা ও সৎকর্মের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বয়সের অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। জীবনের যে পর্যায়েই ভুল উপলব্ধি হোক, তখনই আল্লাহর কাছে ফিরে আসা উচিত।

 

দীর্ঘ জীবনের আশা যেন মানুষকে দায়িত্বহীন না করে তোলে। বরং প্রতিটি দিনকে নতুন সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে পাপ থেকে বিরত থাকা, নেক আমল বাড়ানো এবং পরকালের জন্য প্রস্তুতি নেওয়াই হওয়া উচিত জীবনের লক্ষ্য।

 

পরিশেষে বলা যায়, বার্ধক্য কেবল বয়সের ভার নয়; এটি আত্মসমালোচনা, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়। জীবনের অবশিষ্ট দিনগুলো কতটা সুন্দরভাবে কাজে লাগানো যায়, সেই চিন্তাই হোক প্রত্যেক মানুষের অগ্রাধিকার। কারণ দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী, আর পরকালের জীবনই চিরস্থায়ী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর