শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
শিরোনাম:
সিএস মানচিত্র ধরে ফুলজোড় নদীর প্রবাহপথ উদ্ধারের দাবি এলাকাবাসীর ফ্যাটি লিভার থেকে কি লিভার ক্যান্সার হতে পারে? যে ৭ লক্ষণে সতর্ক হবেন ওয়ানডে দলে প্রথমবার আলিস, বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন লিটন স্থানীয় সরকারকে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য: মঈন খান দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ, রমজানে সংকটের আশঙ্কা নেই: খাদ্যমন্ত্রী রায়গঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা জালাল নগর হাটের উদ্বোধন করলেন এমপি আয়নুল হক রায়গঞ্জে পৃথক অভিযানে বিভিন্ন মামলার ৫ আসামি গ্রেপ্তার রায়গঞ্জে সড়ক পুনর্বাসনে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন নিজেকে নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই : ক্যাটরিনা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন রাবির অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক

প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমালেও ওঠার সময় বদলালে শরীরে কী হয়?

Reporter Name / ১৭ Time View
Update : শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ন

সত্যরেখা লাইফস্টাইল ডেস্ক :

প্রতিদিন রাতে একই সময়ে ঘুমাতে গেলেও সকালে ঘুম থেকে ওঠার সময় যদি প্রতিদিন বদলে যায়, তাহলে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দে প্রভাব পড়তে পারে। পর্যাপ্ত সময় ঘুমানোর পাশাপাশি নিয়মিত সময়ে ঘুমানো ও জেগে ওঠাও সুস্থ থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

 

ঘুমের এই অনিয়মের কারণে দিনের বেলায় ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি এবং ক্ষুধার পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস-এর লাইফস্টাইল বিভাগে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে স্যার এইচ এন রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালক চিকিৎসক দিব্যা গোপাল ঘুমের সময়ের অনিয়ম শরীরে কিভাবে প্রভাব ফেলতে পারে, তা ব্যাখ্যা করেছেন।

 

শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়িতে প্রভাব

মানবদেহে একটি স্বাভাবিক ২৪ ঘণ্টার জৈবিক ছন্দ রয়েছে, যাকে সার্কাডিয়ান রিদম বলা হয়। এটি ঘুম ও জাগরণের সময়, হরমোন নিঃসরণ, শরীরের তাপমাত্রা, বিপাকক্রিয়া এবং সতর্ক থাকার মতো বিভিন্ন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

 

প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠার সময় অনেকটা বদলে গেলে শরীরের এই অভ্যন্তরীণ ঘড়ির সঙ্গে দৈনন্দিন কাজকর্মের সমন্বয় ব্যাহত হতে পারে। যেমন—কর্মদিবসে সকাল ৬টায় ঘুম থেকে উঠলেও ছুটির দিনে সকাল ৯টা বা ১০টায় ওঠার অভ্যাস শরীরের স্বাভাবিক ছন্দে পরিবর্তন আনতে পারে।

 

দিনের বেলায় ক্লান্তি ও ঝিমুনি

ঘুমের সময় নিয়মিত না হলে দিনের বেলায় ক্লান্তি, ঝিমুনি এবং কাজে অনীহা দেখা দিতে পারে। মোট ঘুমের সময় পর্যাপ্ত হলেও ঘুম ও জাগরণের সময়ের অনিয়মের কারণে শরীর সতেজ বোধ না-ও করতে পারে।

 

এতে কাজের প্রতি মনোযোগ ধরে রাখা এবং দৈনন্দিন কাজে সক্রিয় থাকা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

 

মেজাজ ও ক্ষুধায় পরিবর্তন

ঘুমের সঙ্গে ক্ষুধা, পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের সম্পর্ক রয়েছে। ঘুম থেকে ওঠার সময় নিয়মিত বদলালে ক্ষুধা ও খাওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন আসতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে মিষ্টি বা বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা বাড়তে পারে। মেজাজেও ওঠানামা দেখা দিতে পারে।

 

 

দীর্ঘ মেয়াদে বাড়তে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি

ঘুমের অনিয়মের সঙ্গে স্থূলতা, রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের সমস্যা এবং হৃদ্‌রোগসহ বিভিন্ন বিপাকীয় ও হৃদ্‌যন্ত্রের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে ঘুম থেকে ওঠার সময় অনিয়মিত হলেই এসব রোগ হবে, এমন নয়। এ ধরনের অনিয়ম সরাসরি রোগের কারণ—এটি প্রমাণ করার মতো পর্যাপ্ত পরীক্ষামূলক গবেষণাও নেই।

 

মাঝেমধ্যে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা সাধারণত উদ্বেগের কারণ নয়। বরং প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠার সময়ে বড় ধরনের পার্থক্য নিয়মিত ঘটলে তা ঘুমের অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়ার সংকেত হতে পারে।

 

কিভাবে ঠিক রাখবেন ঘুমের রুটিন?

ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে প্রতিদিন, এমনকি ছুটির দিনেও, কাছাকাছি সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করা ভালো। কর্মদিবস ও ছুটির দিনের ঘুম থেকে ওঠার সময়ের ব্যবধান ৩০ থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়মিত রাতে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমানোর লক্ষ্য রাখা উচিত। পাশাপাশি ঘুমানোর সময়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও জরুরি।

 

সুস্থ ঘুমের জন্য শুধু কখন বিছানায় যাচ্ছেন, তা নয়—কখন ঘুম থেকে উঠছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের ঘুম ও জাগরণের সময় যতটা সম্ভব নিয়মিত রাখলে শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক ছন্দ বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর