সত্যরেখা ক্রীড়া ডেস্ক:
শুরুটা ছিল দুর্দান্ত, মাঝপথে হঠাৎ ছন্দপতন, এরপর ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই। তবে দিনের শেষভাগে আবারও ব্যাটিং বিপর্যয়। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টের প্রথম দিনটা বাংলাদেশের কাটল আনন্দ ও হতাশার মিশেলে।
দুই ওপেনারের ব্যাটে বড় সংগ্রহের ভিত গড়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। পরে লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটে আবারও ঘুরে দাঁড়ায় টাইগাররা। দিন শেষে ৮ উইকেটে ৩১৭ রান তুলেছে বাংলাদেশ।
আগামীকাল দ্বিতীয় দিনে অপরাজিত দুই ব্যাটার নাঈম হাসান ১১ ও তাইজুল ইসলাম ৪ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামবেন। আফগানিস্তানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল মোহাম্মদ সালেম। প্রথম দিনেই তিনটি উইকেট শিকার করেছেন এই পেসার।
দিনের শুরুতে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ। এক প্রান্তে ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করেন সাদমান ইসলাম, অন্য প্রান্তে আফগান বোলারদের ওপর চড়াও হন তানজিদ হাসান তামিম। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ৭১ বলে ৮৩ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন বাঁহাতি এই ওপেনার। তার ইনিংসে ছিল আটটি চার ও চারটি ছক্কা। ১১৬.৯০ স্ট্রাইকরেটে ব্যাটিং করা তানজিদ সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১৭ রান দূরে থাকতে সাজঘরে ফেরেন।
তানজিদের বিদায়ে ভাঙে উদ্বোধনী জুটির ১২৪ রান। অন্যদিকে নিজের স্বভাবসুলভ ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে অর্ধশতক তুলে নেন সাদমান। শেষ পর্যন্ত ৬৭ রান করে বিদায় নেন তিনিও।
এরপরই যেন বদলে যায় বাংলাদেশের ইনিংসের চিত্র। সাদমানের বিদায়ের পর মাত্র চার রানের ব্যবধানে তিনটি উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে দল। মুমিনুল হক ৩৯, মুশফিকুর রহিম শূন্য এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ২৯ রান করে ফেরেন। একপর্যায়ে ২ উইকেটে ২২১ রান করা বাংলাদেশের স্কোর হয়ে যায় ৫ উইকেটে ২২৫।
হঠাৎ এই ধাক্কায় বড় সংগ্রহের স্বপ্ন কিছুটা ফিকে হলেও লড়াই চালিয়ে যান লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। দুজনের ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে আসে গুরুত্বপূর্ণ ৬২ রান। এই জুটিই বাংলাদেশকে আবারও তিনশ রানের গণ্ডি পেরোতে সহায়তা করে।
ব্যাট হাতে অর্ধশতক তুলে নেন লিটনও। তবে তানজিদ ও সাদমানের মতো তিনিও সেঞ্চুরি থেকে দূরে থাকতেই সাজঘরে ফেরেন। ৫৩ রান করা এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটারকে ফিরতে হয় ইয়ামিন আহমেদজাইয়ের দারুণ ক্যাচে। অন্যদিকে মিরাজের ব্যাট থেকে আসে ২৪ রান।
শেষ দিকে আবারও উইকেট হারিয়ে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ে বাংলাদেশ। দিন শেষে স্কোরবোর্ডে ৩১৭ রান থাকলেও হাতে রয়েছে মাত্র দুই উইকেট। এখন দেখার বিষয়, দ্বিতীয় দিনের সকালে নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলাম শেষ দুই উইকেটে দলের সংগ্রহ কতটা বাড়াতে পারেন।